আমি হরর মুভি পছন্দ করি। যেসব মুভিতে ভূত থাকে না কিন্তু ভয়ের অনুভূতি থাকে, সেগুলো বেশি পছন্দ করি। এ ধরণের মুভি খুঁজতে গিয়ে অনেক হরর মুভি দেখা হয়ে গেছে। অনেক সাইকোলজিক্যাল হরর মুভি দেখতে গিয়ে মেজাজ খারাপ হয়েছে। কারন এসব ক্ষেত্রে সবাই কেন যেন Dissociative identity disorder অথবা Schizophrenia-তে ভুগে! এ দুটি মানসিক সমস্যা ছাড়া কি হরর মুভি হতে পারে না?
গত বছর বেশ কিছু হরর মুভি দেখলাম। নিচে IMDB Rating এবং আমার ব্যক্তিগত মতামতসহ সেগুলো উল্লেখ করলাম।
বেশি ভালো লেগেছে
* The Devil’s Advocate (1997/7.4): এটাকে এক জায়গায় দেখি হরর, আরেক জায়গায় দেখি থ্রিলার! যা হোক, মুভিটি দেখলে দুইটার স্বাদই পাবেন। আল পাচিনো, কিয়ানু রিভস আর শারলিজ থেরন আছেন এখানে। জব্বর কাহিনী, জব্বর অভিনয়, জব্বর ডায়ালগ! না দেখলে আফসোস থেকে যাবে।
* Angel Heart (1987/7.3): এটাকেও হরর+থ্রিলার বলা হয়েছে। এখানে মূল নায়ককে একজন রহস্যময় ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত গোয়েন্দা হিসেবে ভাড়া করে। এরপর শুরু হয় প্যাঁচ লাগা আর খোলার পালা। ওই রহস্যময় ব্যক্তিই বা কে আর কেনই বা নায়কের সাথে ঘটে চলেছে এত লুকোচুরি? The Devil’s Advocate এর মত এটিও গতানুগতিক ধারার বাইরে একটি চরম মুভি।
* Pit and The Pendulum (1961/7): হুমায়ূন আহমেদের এক বই পড়তে গিয়ে এটার নাম জেনেছিলাম। যে মুভির এত প্রশংসা উনি করেছেন, সেটা দেখার লোভ সামলাতে পারি নি। আর দেখে আমি অভিভূত! এডগার এলান পো’র গল্প থেকে বানানো মুভি। মুভির পরিবেশ আর সবার অভিনয় মিলিয়ে ভালো ভয় পেয়েছিলাম!
* Insidious (2010/6.8 ): এই মুভিটিও আমাকে স্নায়ুচাপের মধ্যে রেখেছিল। পুরো মুভি জুড়েই “কি হচ্ছে? কি হবে?” ভেবে আর দৃশ্যগুলো দেখে গায়ের লোম-টোম সব দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। জশ আর রেনাই নতুন বাড়িতে উঠেছে তিন সন্তানসহ। কিন্তু সমস্যা কোথায়? নতুন বাড়িতে নাকি জশের ছেলে ডাল্টনের ভিতর? আরো জট লেগে যায় যখন বাসা বদলের পরও ডাল্টনের অবস্থার কোন উন্নতি হয় না। এখন ছেলেকে বাঁচানোর উপায়? জানতে হলে দেখতে বসে পড়ুন মুভিটি!
ভালো লেগেছে
* Shutter (Thailand 2004/7.1), (American remake 2008/5): আমি দেখেছি রিমেক মুভিটা। এটা দেখেই খুব ভালো লেগেছে। আসলটা না জানি আরও কত ভয়ের! বেন একজন আমেরিকান ফটোগ্রাফার। কিন্তু চাকরির খাতিরে তাকে থাকতে হয় টোকিওতে। তাই আমেরিকা থেকে নব বিবাহিত স্ত্রী জেনকেও টোকিওতে নিয়ে আসে সে। কিন্তু ভেজাল লাগে তখনি যখন জেন-বেন দুজনের ক্যামেরায় তোলা ছবিতেই অস্বাভাবিক ব্যাপার-স্যাপার ধরা পড়তে শুরু করে। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে ভয়ংকর এক কাহিনী!
* The Eye (China 2002/6.7), (American remake 2008/5.2): এটারও রিমেকটাই দেখা হয়েছে। যথেষ্ট ভাল মুভি। তবে বেশি মজা পাওয়ার জন্য মূল মুভি দেখাই উত্তম বলে আমার ধারণা। ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনাবশতঃ জেসিকা অ্যালবা তার দৃষ্টি হারায়। দৃষ্টিহীন জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া জেসিকার কোন ইচ্ছা ছিল না কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের। কিন্তু বড় বোনের জোরাজুরিতে সে অপারেশন করায়। আর এরপর থেকেই শুরু হয় জেসিকার জীবন ওলট-পালট হয়ে যাওয়ার কাহিনী।
* House At The End Of The Street (2012/5.5): রেটিং কম হলেও আমার কাছে ভালো লেগেছে মুভিটি। বেশ সাসপেন্স আর থ্রিল ছিল এতে। নতুন পাড়ায়, নতুন বাড়িতে উঠেছে মা-মেয়ে। কিন্তু বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় এ পাড়ার একটা অতীত কাহিনী গোপন রাখা হয় তাদের কাছ থেকে। এটি নিয়েই ছবিটি।
* Films to keep you awake: To Let (2006/6.4): অদ্ভুত ধরণের এক স্প্যানিশ মুভি। বাসা খোঁজার সময় স্বামী-স্ত্রী মিলে সস্তা একটা এপার্টমেন্ট দেখতে যায়। সেখানে যাওয়ার সময় থেকেই স্ত্রীর মনের মধ্যে অশুভ অনুভূতি কাজ করতে থাকে। কিন্তু স্বামীর কথায় দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে তারা এপার্টমেন্টে প্রবেশ করে। এরপর তিন বেডরুমের “ভাড়া দেওয়া হইবে” বাসাটির ভেতর কি চলছে, কেন চলছে………… তা দেখে ফেলুন। আশা করি, ভালই লাগবে।
* Rec 2 (2009/6.6): আরেকটা স্নায়ুক্ষয়ী স্প্যানিশ মুভি। দেখতে বসে হৃদপিণ্ডের ধড়াস ধড়াস শব্দই বেশি শুনেছি। এর তিনটি পর্ব রয়েছে। আমি শুধু দ্বিতীয় পর্বটি দেখেছি। চতুর্থ পর্বটি নাকি ২০১৩ সালের শেষে বের হবে! ‘অজানা ভাইরাসে পুরো বিল্ডিং আক্রান্ত’ বুঝ দিয়ে মিডিয়াকে শান্ত রাখা হয়েছে। বিজ্ঞানী পরিচয় দিয়ে একজন ব্যক্তি কয়েকজন সৈন্যকে নিয়ে বিল্ডিঙে ঢুকলেন। একজন সৈন্যের দায়িত্ব হল সবকিছু ভিডিও রেকর্ড করা। কিন্তু আসলে হচ্ছেটা কি বিল্ডিঙের ভেতর? বিজ্ঞানীটি কেন ধর্মীয় মন্ত্র দিয়ে অজানা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়তে চাচ্ছেন??
মোটামুটি লেগেছে
* The Red Shoes (2005/5.8 ): এক জোড়া অভিশপ্ত লাল জুতো নিয়ে গড়ে উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়ার এই মুভির কাহিনী।
* Spiral/Uzumaki (2000/6.3): জাপানিজ এই মুভিটি একটু বোরিং টাইপের লেগেছে। এক লোকালয়ের বাসিন্দারা ক্রমে Spiral বা প্যাঁচানো আকৃতি দ্বারা মোহাবিষ্ট হয়ে পড়ে। তাদের জীবনযাত্রা এই ঘোর থেকে বের হতে পারে না। অভিশপ্ত এই মোহ তাদের জীবনের কোন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছায় তা মুভি না দেখলে বোঝা যাবে না।
* The Devil’s Backbone (2001/7.5): রেটিং ভালো হলেও আমার তেমন ভালো লাগে নি স্প্যানিশ-মেক্সিকান মুভিটি। হয়ত নাম আর রেটিং দেখে প্রত্যাশাটা খুব বেশিই হয়ে গিয়েছিল! ১৯৩৯ সালে সংঘটিত স্প্যানিশ সিভিল ওয়ারের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবিটি ছেলেদের একটি এতিমখানাকে ঘিরে। এখানে বসবাসরত কারলিতোস নামক এক বালক প্রায়শই অদ্ভুত এক অস্তিত্বের দেখা পায় যাকে অনেকে শুধু অনুভব করে।
* The Apparition (2012/4): রেটিং যেমন, মুভিও তেমন। শুরু দেখে ভেবেছিলাম অন্যরকম কিছু হতে যাচ্ছে। কিন্তু না, প্ল্যানচ্যাট ভিত্তিক গতানুগতিক ভৌতিক মুভি।
এগুলো ছাড়াও The Others, Identity, The Uninvited, The Sixth Sense দেখা না হয়ে থাকলে দেখার জন্য অনুরোধ রইল। এগুলো অনেক আগে দেখেছি এবং সবগুলোই অসম্ভব ভালো লেগেছে। অতীতে দেখা আরও অনেক হরর মুভি নিয়ে ভবিষ্যতে আরেকটা পোস্ট দিব, আশা রাখি!